জনসাধারণের মধ্যে বিকল্প শক্তির উৎস নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে কেন্দ্রীয় অনুদানে কলকাতা এবং দুর্গাপুরে তৈরি হয়েছিল এনার্জি এডুকেশন পার্ক। কিন্তু ইএম বাইপাসে সায়েন্স সিটির উল্টোদিকে কয়েককোটি টাকা খরচ করে নির্মিত পার্কটি এক বছর আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
অচিরাচরিত শক্তি থেকে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে তৎপর হলেও এনার্জি পার্কের হাল ফেরাতে আগ্রহী নয় রাজ্য সরকার।
জনসাধারণের মধ্যে বিকল্প শক্তির উৎস নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে কেন্দ্রীয় অনুদানে কলকাতা এবং দুর্গাপুরে তৈরি হয়েছিল এনার্জি এডুকেশন পার্ক। কিন্তু ইএম বাইপাসে সায়েন্স সিটির উল্টোদিকে কয়েককোটি টাকা খরচ করে নির্মিত পার্কটি এক বছর আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পরিত্যক্ত পার্কটিতে গজিয়ে ওঠা আগাছার জঙ্গল এবং জমে থাকা জল কার্যত মশার আঁতুড়ঘর। একই অবস্থা দুর্গাপুরের পার্কটিরও। অথচ দিল্লি, শিলং, পুণে, বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইয়ের পার্কগুলি দিব্যি চলছে।
এক সময় ওই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা শান্তিপদ গণচৌধুরী এ ব্যাপারে বলেন, “পার্কগুলির জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে গেলে দ্রষ্টব্যে নিয়মিত বদল আনতে হবে। নতুন গবেষণার বিষয়ও সেখানে উঠে আসা জরুরি। এখানে পেশাদারিত্বের অভাব হলে মুশকিল।” কিন্তু এনার্জি পার্ক নিয়ে রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ওই পার্ক আর চালানো হবে না। তার বদলে সচেতনতা বাড়াতে সরকার বিকল্প কর্মসূচি নেবে।”
১৯৯৯ সালে কেন্দ্রীয় শক্তিমন্ত্রক অচিরাচরিত শক্তি সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে একাধিক রাজ্যে এনার্জি এডুকেশন পার্ক গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এ বিষয়ে প্রচারে পশ্চিমবঙ্গ সে সময় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল। ফলে অন্য রাজ্যগুলিতে একটি করে পার্ক তৈরি হলেও পশ্চিমবঙ্গে দু’টি পার্ক তৈরির জন্য অর্থ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার।
প্রথমে স্কুল-কলেজের পড়ুয়া ছাড়াও সাধারণ মানুষ টিকিট কেটে পার্কে যেতেন। কিন্তু পরে দর্শক সংখ্যা কমতে থাকে বলে জানায়, রাজ্য সরকার। দাবি, দর্শকের অভাবে পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের খরচও উঠত না। তাই অর্থ খরচ করে পার্ক চালাতে আগ্রহী নয় রাজ্য।
অথচ এই রাজ্য সরকার-ই বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া বিভিন্ন অচিরাচরিত শক্তি থেকে কমবেশি ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। রাজ্যের দুর্গম এলাকাগুলিতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে অপ্রচলিত শক্তির উৎসকেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এ নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় এনার্জি পার্কগুলির হাল ফেরাতে সরকারের অনীহা সেই লক্ষ্যপূরণেই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

No comments:
Post a Comment